বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
বৃদ্ধ মাতাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছেলে আটক লালমনিরহাটে ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষ’ণের অভিযোগ সার পাচার রোধে উদাসীনতার অভিযোগ: ২০ বছরের অধিক সময় একই জেলায়,প্রশ্নের মুখে পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বিকাশ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, জাহাঙ্গীর আলম ভাইরাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ট্রাফিক সার্জেন্টের হেলমেট চুরি করে পালানোর সময় মাইক্রোবাস চালক আটক কিশোরগঞ্জে হাফেজ যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, ঘর থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার লালমনিরহাটে “স্মৃতিতে ২৪” শীর্ষক মাসব্যাপী প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ আদিতমারীতে অনলাইন জুয়া খেলায় আটক-২ পাটগ্রামে মোবাইল দেখানোর কথা বলে শিশুকে ধ’র্ষণের অভিযোগ, প্রতিবেশী দাদা গ্রে-প্তার কালীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হা’মলা-ভাঙচুরের অভিযোগে কৃষক দল নেতা গ্রেফতার, দল থেকে বহিষ্কার
সার পাচার রোধে উদাসীনতার অভিযোগ: ২০ বছরের অধিক সময় একই জেলায়,প্রশ্নের মুখে পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন

সার পাচার রোধে উদাসীনতার অভিযোগ: ২০ বছরের অধিক সময় একই জেলায়,প্রশ্নের মুখে পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:: পঞ্চগড় জেলায় সার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে জালিয়াতি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে সার পাচার রোধে উদাসীনতা, নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তোলা এবং একই জেলায় দীর্ঘদিন ঘুরেফিরে দায়িত্ব পালন করা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন সরকার।

​তথ্যমতে, পঞ্চগড় জেলায় ২০২৬ সালের জুলাই মৌসুমে ১০১ মেট্রিক টন টিএসপি ও ২৮৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং আগস্ট মৌসুমে ১৬৭ মেট্রিক টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে সারের চরম কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পাচারের অভিযোগ উঠে আসছে।

​গত ১৪ আগস্ট পঞ্চগড়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় দুটি ভ্যান থেকে মোট ৪০ বস্তা সার আটক করে স্থানীয় জনতা। সারের ভ্যানচালকদের দেওয়া তথ্যমতে, সারগুলো আটোয়ারী উপজেলা থেকে নিয়ে সাকোয়া বাজারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। আটককৃত চালকদের এ সংক্রান্ত একটি ধারণ করা ভিডিও তে এসব কথা বলতে শোনা যায় ।


​এ বিষয়ে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজসহ বিষয়টি পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতির নজরে আনা হলে তিনি তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন সরকারের বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি কৌশল অবলম্বন করে দায় এড়িয়ে দাবি করেন, “এই সার আমাদের জেলার নয়।” তবে বিষয়টি পরবর্তীতে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

​এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২১তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা আব্দুল মতিন সরকার সিলেট বিভাগের চুনারুঘাটে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এএও) হিসেবে বদলি হয়ে আসেন। এরপর জেলা সদরে কৃষি কর্মকর্তা (এইও), পরে অতিরিক্ত উপপরিচালক (এডিডি), বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ পদোন্নতি পেয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।


​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শ্বশুরবাড়ি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায়। বছরের পর বছর নানা কৌশলে একই জেলায় অবস্থান করা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম অসন্তোষ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। একই জেলায় দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান নীতিগতভাবে কতটা যৌক্তিক, স্থানীয়রা স্বজন প্রীতির ইঙ্গিত বলে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

উল্লেখ্য: সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট সময় পরপর তাঁর এবং তাঁর পরিবারের অর্জিত সম্পদের হিসাব জমা দিতে হয়। বৈধ আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন করলে তা দুর্নীতি দমনজ কমিশনের (দুদক) আওতায় তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

পঞ্চগড়ে ​কৃষি খাতের সার বরাদ্দ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা এই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সার পাচার রোধে উদাসীনতা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অফিশিয়াল মিটিংয়ের নামে প্রায়ই রংপুরে অবস্থান করাসহ একাধিক অভিযোগে বর্তমানে জেলাজুড়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com